মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

  • সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
  • প্রতিষ্ঠাকাল
  • ইতিহাস
  • প্রধান শিক্ষক/ অধ্যক্ষ
  • অন্যান্য শিক্ষকদের তালিকা
  • ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা (শ্রেণীভিত্তিক)
  • পাশের হার
  • বর্তমান পরিচালনা কমিটির তথ্য
  • বিগত ৫ বছরের সমাপনী/পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল
  • শিক্ষাবৃত্ত তথ্যসমুহ
  • অর্জন
  • ভবিষৎ পরিকল্পনা
  • ফটোগ্যালারী
  • যোগাযোগ
  • মেধাবী ছাত্রবৃন্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামে পাহাড়ি ও সমতল ভূমির উপর অবস্থিত। এটি ১৮ই নভেম্বর, ১৯৬৬ সালে উদ্বোধন করা হয়।

১৯৬৬

পাকিস্তান আমলে অবশ্য মাঝে মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা উঠলেও মূলতঃ তা চট্টগ্রাম বিভাগের যে কোন জিলায় স্থাপনের দাবি ও চিন্তাভিত্তিক ছিল। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক শাসন প্রবর্তন করে ২৭ অক্টোবর সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান (বগুড়ার মোহাম্মদ আলী মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীণ্ড ২৫ অক্টোবর’৫৪-১৮ আগষ্ট’৫৫)। প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণের পর পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক আই,জি,পি জনাব জাকির হোসেনকে (রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম) গভর্নর নিয়োগ করেন।
জনাব জাকির হোসেন গভর্নর হওয়ার পর (১৯৫৮-৬০) চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠিত জননেতা আলহাজ্ব এ,কে,এম ফজলুল কাদের চৌধুরীকে তাঁর প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেন এবং একই সাথে একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করেন। এতে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব আবদুর রহমান মিঞা (অবসর প্রাপ্ত স্কুল পরিদর্শক), শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী জনাব বাদশা মিঞা চৌধুরী টি,কে,ও জনাব ও,আর,নিজাম (চট্টগ্রাম পৌরসভার এককালীন ভাইস চেয়ারম্যান ১৯৫৮-৬৫) প্রমুখ সদস্য ছিলেন।
এই সময় তৈরি হচ্ছিল দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনায় সর্বজনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী ও জাকির হোসেনের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয় (অবশ্য কোন জিলায় তা স্থাপিত হবে তার কোন নির্দিষ্ট বক্তব্য ছিলনা)। ১৯৬০ সালের ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নেতৃবর্গ, সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগীগণ জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরীর পাহাড়শীর্ষস্থ ভবনে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রামে স্থাপনে তাঁর (জনাব চৌধুরীর) বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এই বৈঠকে সর্বজনাব রফিকউদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী, অধ্যাপক এ,বি,এম সুলতানুল আলম চৌধুরী (প্রাক্তন এম.পি.এ), আবুল খায়ের সিদ্দিকি, আজিজুর রহমান, এম.এ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরী (প্রাক্তন মন্ত্রী ১৯৭২-৭৪), কবি আবদুস ছালাম, সুলতান আহমদ, বাদশা মিঞা চৌধুরী টি,কে ও,আর,নিজাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ বক্তেয়ার মিঞা, অধ্যক্ষ এ,এ রেজাউল করিম চৌধুরী, অধ্যাপক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট সুলতান আহমদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলহাজ্ব এম,এ জলিল, আলহাজ্ব ইসলাম মিঞা, টি,কে, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী, এম, বদরুল ইসলাম খান চৌধুরী প্রমুখ ছাড়াও ছাত্রনেতাদের মধ্যে সর্বজনাব মোহাম্মদ হোসেন খান, এ,বি,এম খায়রুল আলম, মুহাম্মদ আশরাফ খান, মুহাম্মদ মুহসীন, মঈদুর রহমান চৌধুরী ও আবু বকর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই সময়ের মধ্যে জনাব চৌধুরী গভর্নরের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে দিয়েছেন এবং সামরিক সরকার কর্তৃক অন্যান্য জাতীয় নেতৃবর্গের সাথে এবডো তথা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য ঘোষিত হন। অপরদিকে ১৯৬০ এর শেষের দিকে জনাব জাকির হোসেনকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রী লেঃ জেনারেল মুহাম্মদ আজম খানকে (সামরিক শাসনের অন্যতম স্থপতি) এখানকার গভর্নর পদে নিয়োগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নে “বিভাগ” শব্দটি সংযুক্ত থাকায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ করে সিলেট ও কুমিল্লা জিলাদ্বয়ও আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ছাত্রদের দ্বারা ঘেরাও হন (৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২)। অবস্থা বেগতিক দেখে গভর্নর আজম খান গাড়ি থেকে বের হয়ে তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গীমায় ঘোষণা দেনণ্ড “এয়ে থার্ড ইউনিভার্সিটি হযরত শাহ জালাল (রাঃ) ক্যা মুল্লক সিলেটমে হুগা। ” অর্থাৎ হযরত শাহজালাল (রাঃ)’র দেশ সিলেটেই তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে (দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক আজাদী/৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২)।
এদিকে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে সর্বজনাব ফজলুল কবীর চৌধুরী (সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ১৯৬২-৬৫ ও ১৯৬৭-৬৯), আবুল খায়ের সিদ্দিকী, বাদশা মিঞা চৌধুরী, আজিজুর রহমান (সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ১৯৬২-৬৫), আলহাজ্ব আবদুল খালেক (দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক), অধ্যাপক এ,বি,এম সুলতানুল আলম চৌধুরী (সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ১৯৫৪-৫৮), অধ্যাপক মুহাম্মদ খালেদ (সাবেক সংসদ সদস্য ১৯৭০-৭৫), বাকশাল জেলা গভর্নর ১৯৭৫ এবং সম্পাদক (দৈনিক আজাদী), অধ্যাপক আহমদ হোসেন এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে সকল স্কুল ও কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও জিএসগণ পৃথক বিবৃতিতে প্রস্তাবিত তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে স্থাপনের দাবি জানিয়ে দৈনিক আজাদীতে বিবৃতি প্রদান করেন (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২)।
১৯৬২ এর ২৮ এপ্রিল সামরিক শাসনের অধীনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদদ্বয়ের (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান) নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এটি ছিল নির্দলীয় ও মৌলিক গণতান্ত্রিক ভিত্তিক। তৎসময়ে সংগৃহীত চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রার্থীর (বিশেষ করে জাতীয় পরিষদের ৫টি আসনের প্রার্থীগণ) নির্বাচনী কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে কোন ভূমিকা তাঁরা রাখতে ব্যর্থ হন। এমনকি তৎসময়ে শিল্পমন্ত্রী (১৯৫৮-৬২) জনাব এ,কে,খানও কোন উচ্চবাচ্য করেননি। শুধুমাত্র জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী তাঁর বিশাল নির্বাচনী এলাকায় (সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা) দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনণ্ড “আমি নির্বাচিত হই আর না হই, তবে বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে স্থাপনের সকল প্রচেষ্টা আমি নেব এবং ইনশাল্লাহ আমার এই উদ্যোগে সাফল্য অর্জন করবই।” বিভিন্ন নির্বাচনী বক্তৃতা ও নির্বাচনী কর্মসূচির সাক্ষাৎকারে। দৈনিক মর্নিং নিউজ, আজাদ ও আজাদী ১৫ থেকে ২৫ এপ্রিল ১৯৬২)।
জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৬২-র মে মাসে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে জনাব চৌধুরীকে এক বিশাল নাগরিক সম্বর্ধনা দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জনাব রফিকউদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী (সাবেক চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম পৌরসভা ১৯৫৮ ও গণপরিষদ সদস্য ১৯৪৬-৫৪) প্রদত্ত মানপত্রের জবাবে জনাব চৌধুরী প্রত্যয়দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন “মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করি আর না করি তবে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে ছাড়ব।”
১৯৬২-র ১৩ জুন জনাব চৌধুরী পাকিস্তানের খাদ্য, কৃষি, পূর্ত, ত্রাণ, শিল্প ও তথ্য দপ্তরের মন্ত্রী হন। চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আশার আলো ্‌জ্বলে উঠল। ইতিমধ্যে সর্বজনাব বাদশা মিঞা চৌধুরী, আবুল খায়ের সিদ্দিকী, ফজলুল কবির চৌধুরী, অধ্যাপক আহমদ হোসেনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিত্বশীল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবীতে বেশ কয়েকটি জনসভাসহ আন্দোলনকে জোরদার করে তুলে।
১৯৬২-র ১৭ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক শিক্ষা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত চট্টগ্রাম সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরী মহাবিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৬২-র ১৫ জুলাই চট্টগ্রামের ছাত্র সমাজের পক্ষে জনাব চৌধুরীর সাথে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বৈঠকে মিলিত হয়ে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানালে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই চট্টগ্রামে স্থাপিত হবে। অক্টোবরে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্য জনাব মাহবুবুল হক (নোয়াখালী) চট্টগ্রাম বিভাগ প্রস্তাবিত তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে এক প্রশ্ন উত্থাপন করলে শিক্ষামন্ত্রী জনাব চৌধুরী বলেন, “মাননীয় সদস্য চট্টগ্রাম বিভাগ বলে ভুল বলছেন। এটি চট্টগ্রাম জিলায় স্থাপিত হবে এবং এর জন্য কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যে ৬০ লক্ষ টাকা মঞ্জুরী দেয়া হয়েছে।” (দৈনিক আজাদী ও দৈনিক ডন/২০শে অক্টোবর ১৯৬২)।
অপর দিকে কুমিল্লা জিলা হতে জনাব মহিউদ্দিন আহমদ প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী হওয়ায় কুমিল্লায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের জোর লবিং ও আন্দোলন শুরু করেন। সিলেটবাসীও তাদের দাবিতে সোচ্চার হয়। সিলেটবাসী দৈনিক ডনের সম্পাদক জনাব আলতাফ হোসেন (পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী ১৯৬৫-৬৮) এক সম্পাদকীয়তে লিখেনণ্ড “পূর্ব পাকিস্তানে প্রস্তাবিত তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিভাগে স্থাপনের প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী এক চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। কেননা প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী জনাব মফিজ উদ্দিন আহমদ হলেন কুমিল্লার লোক। তদুপরি এ ব্যাপারে প্রাদেশিক সরকারই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক হন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এন,ই,সি)। দেখা যাক কে হারে কে জেতে। তবে নিঃসঙ্কোচে বলা যায়, চট্টগ্রাম জিলা এ ব্যাপারে প্রাধান্য পাওয়ার সার্বিক যোগ্যতা রাখে (২ নভেম্বর ১৯৬২)।
১৯৬২-র ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এ,কে,এম, আবু বকর চৌধুরী’র নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবীতে ছাত্র সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় এবং ৮ জানুয়ারি (১৯৬৩) চট্টগ্রামে পূর্ণদিবস হরতাল পালন করা হয়।
অপরদিকে প্রাদেশিক গভর্নর জনাব আবদুল মোমেন খানও (১৯৬২-৬৯) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নে সিলেট কুমিল্লার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। এমনি এক নাজুক অবস্থায় জনাব চৌধুরী মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে জাতীয় পরিষদের স্পীকার নির্বাচিত হন (২৯ নভেম্বর ১৯৬৩-১লা জুন ১৯৬৫)। অবস্থা বেগতিক দেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সাথে রাওয়ালপিণ্ডি, ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকদফা বৈঠক করলেও কোনরকম ইতিবাচক উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী ১৯৬৩-র ১২ই ডিসেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব এ,টি,এম মোস্তফাকে প্রস্তাবিত তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রামে স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং চট্টগ্রামের নাগরিক সম্বর্ধনা সভায় দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেনণ্ড “তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম জেলায় স্থাপিত হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশও আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি” (দৈনিক আজাদী/১৪ ডিসেম্বর’১৯৬৩)। ১৯৬৪-র মার্চে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করাকালে চট্টগ্রাম জিলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও অনুমোদন করেন।
ইতিমধ্যে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে সর্বজনাব ফজলুল কবির চৌধুরী, জাকেরুল হক চৌধুরী, এম,এ জলিল, আজিজুর রহমান, আলহাজ্ব ইসলাম মিঞা এক যৌথ প্রস্তাবে তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে স্থাপনের জোর দাবি জানান এবং শিক্ষামন্ত্রী জনাব মফিজউদ্দিন আহমদের নেতিবাচক উত্তরে চট্টগ্রাম জেলার সকল এম,পি,এ ওয়াক আউট করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নে গভর্নর আবদুল মোনেম খান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিভাগের জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। এতে অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, সিলেটবাসীগণ বৈদেশিক অর্থের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ জোগানের প্রস্তাব দেয়ায় গভর্নর সাহেব এতে মৌন সম্মতি দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে, সিলেটেই তা স্থাপিত হবে। অবস্থা বেগতিক দেখে জনাব আবুল খায়ের সিদ্দিকী ও আবু বকর চৌধুরী তৎকালীন গভর্নরের মিলিটারী সেক্রেটারী কর্নেল ইস্কান্দর করিমের (পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল/গহিরা রাউজান নিবাসী) কক্ষে ঢুকে রাওয়ালপিণ্ডিতে জনাব চৌধুরীর বাসায় যোগাযোগ করলে জানানো হয় যে তিনি কোপেনহেগেনের পথে হয়ত করাচীতে আছেন অথবা রওয়ানা হয়ে গেছেন। সেই এক চরম মুহূর্তে মিলিটারী সেক্রেটারীকে বলা হয় করাচী এয়ারপোর্টে যোগাযোগ করার জন্য এবং তাই করা হলে জনাব চৌধুরীকে সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণরত অবস্থায় পাওয়া গেল। জনাব আবুল খায়ের সিদ্দিকী বিস্তারিত জানানোর পর তিনি গভর্নরের সাথে কথা বলেন। টেলিফোনে যেই কথা বলেন তা তারা মিলিটারী সেক্রেটারীর কক্ষ থেকে ওভার হেয়ারিং করেন এবং চৌধুরী সাহেব বলেন যে, “আমি কোপেনহেগেন থাকাকালীন শুনতে চাই যে, আপনি চট্টগ্রামেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা ঘোষণা দিয়েছেন”। উল্লেখ্য, জনাব চৌধুরী তখন কোপেনহেগেন আন্তঃসংসদীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ত্যাগ করেন (অক্টোবর ১৯৬৪)। জনাব চৌধুরীর সাথে টেলিফোনে আলাপের পর গভর্নর সাহেব জনাব সিদ্দিকীকে ডেকে বল্লেন, “তোমরাত আমাকে অপমান করলে। ঠিক আছে প্রাথমিক ফান্ড হিসাবে চট্টগ্রাম থেকে আজকের মধ্যে নগদ ২৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। (নির্দেশানুযায়ী) জনাব সিদ্দিকীসহ অন্যান্য নেতৃবর্গ ফান্ড যোগাড়ের জন্য বের হয়ে জনাব সুলতান আহমদ, এম,এ জলিল, হাজী রাজ্জাক, হাজী জানু, আলহাজ্ব ইসলাম খান, এম,এম ইস্পাহানী মির্জা আবু আহমদ প্রমুখ ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ হতেই এই ফান্ড সংগ্রহ করা হয়। আজকে আমি তাঁদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
১৯৬৫-র ১৭ জানুয়ারি পিণ্ডিতে জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রস্তাবিত তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পরের দিন জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলে অর্থ অনুমোদন দেয়া হয়। এই বৈঠকেও তিনি সভাপতিত্ব করেন। তখন তিনি পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট।
একদিকে সকল প্রতিকূলতার মাঝেও ক্ষমতাকে ব্যবহার করে একক প্রচেষ্টায় জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী অপরদিকে স্থানীয়ভাবে সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বজনাব বাদশা মিঞা চৌধুরী, আবুল খায়ের সিদ্দিকী, ফজলুল কবির চৌধুরী, অধ্যাপক আহমদ হোসেন প্রমুখ শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী, রাজনৈতিকবর্গ চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে যেই অবদান রেখে গেছেন তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে।
১৯৬৬-র ১৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। এর প্রজেক্ট ডাইরেক্টর পরবর্তীতে প্রথম উপাচার্য হিসাবে ড. আজিজুর রহমান মল্লিক (বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ১৯৭৪-৭৫) বিশ্ববিদ্যালয় প্রজেক্টের বাস্তবায়নে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি মাত্র ১১ মাস সময়ে অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।
মওলানা মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে মূলতঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ বল্লে আমার মনে হয় এতটুকু অতিরিক্ত বলা হবে না। তিনি ত্রিশ চল্লিশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেয়াং পাহাড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে একটি জায়গাও দান করেছিলেন কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর এটি ধামাচাপা পড়লেও ষাট দশকের প্রারম্ভে যখন পুনঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু হয় তখন দেয়াং পাহাড়ে স্থাপনের দাবিও ছিল।
পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে (১৩ জুন’১৯৬২-৩১ ডিসেম্বর ১৯৬৩) জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী এক আদেশ বলে এই উপমহাদেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার (বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকার কর্তৃক গঠিত ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান) নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থান নির্বাচনী কমিশন গঠন করেন। এটি ১৯৬২-৬৩ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। ১৯৬২’র নভেম্বরে এই কমিশন চট্টগ্রাম আসেন এবং ১২ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান স্থান পরিদর্শন করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ড. কুদরত-ই-খুদা এই স্থান উপযুক্ত বলে রিপোর্ট দেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচিত বর্তমান স্থানটি দখলের ব্যাপারে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান জনাব আলী আহমদ টি,কে যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করেন।

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল
অধ্যাপক মোঃ আনোয়ারুল আজিম আরিফ 0 abc@gmail.com

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল

99

অনুষদ ও বিভাগসমূহ

বিজ্ঞান অনুষদ

  • রসায়ন বিভাগ
  • পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
  • গণিত বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ
  • ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ

  • কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • ফলিত পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

জীব বিজ্ঞান অনুষদ

  • উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ
  • প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
  • মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ
  • প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ
  • ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ
  • মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ
  • জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজী বিভাগ
  • মনোবিজ্ঞান বিভাগ
  • ফার্মাসী বিভাগ

সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ

  • যোগায়োগ ও সাংবাদিকতা
  • অর্থনীতি বিভাগ
  • রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ
  • সমাজতত্ত্ব বিভাগ
  • লোক প্রশাসন বিভাগ
  • নৃবিজ্ঞান বিভাগ
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

কলা অনুষদ

  • সংস্কৃত বিভাগ
  • পালি বিভাগ
  • বাংলা বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • ইতিহাস বিভাগ
  • ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
  • দর্শন বিভাগ
  • নাট্যকলা বিভাগ
  • আরবি বিভাগ
  • ফারসি বিভাগ
  • ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ

বানিজ্য অনুষদ

  • একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ
  • ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
  • ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ
  • মার্কেটিং বিভাগ

আইন অনুষদ

  • আইন বিভাগ

চারুকলা অনুষদ

  • চারুকলা বিভাগ

ইনস্টিটিউটসমূহ

  • ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিশ
  • ইনস্টিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস
  • চারুকলা ইনস্টিটিউট

গবেষণা কেন্দ্রসমূহ

গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র

নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী আবদুস সালাম ১৯৮৯ সালে এই গবেষণাকেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

নজরুল গবেষণা কেন্দ্র

ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ

অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউট

  • চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ,চট্টগ্রাম
  • কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ,কুমিল্লা
  • বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ,চট্টগ্রাম
  • টেক্সটাইল ইন্জ্ঞিনিয়ারিং কলেজ,চট্টগ্রাম
  • গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ,
  • সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ,কুমিল্লা
  • ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ,কুমিল্লা
  • ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ,চট্টগ্রাম
  • মা ও শিশু ইনস্টিটিউট,চট্টগ্রাম
  • ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি, চট্টগ্রাম

আবাসিক হলসমূহ

ছাত্র হল

  • আলাওল হল
  • এ.এফ. রহমান হল
  • শাহজালাল হল
  • সোহরাওয়ার্দী হল
  • শাহ আমানত হল
  • মাষ্টারদা সূর্যসেন হল
  • শহীদ আবদুর রব হল

ছাত্রী হল

  • শামসুন্নাহার হল
  • প্রীতিলতা হল
  • দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল

চাকসু

শিক্ষার্থী সংগঠন

জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক

  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি(সিইউডিএস)
  • ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্ট ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন।
  • বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন

সাংস্কৃতিক

  • চারন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
  • বোধন
  • উদীচী
  • সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন

বিবিধ

  • বাঁধন

যাতায়াত

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য দুটি শাটল ট্রেন রয়েছে।

গ্রন্থাগার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই গ্রন্থাগারে রয়েছে বিরল বই, জার্নাল, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদান, পান্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই। ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোবধনের সাথে এই গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয় মাত্র ৩০০ বই নিয়ে। লাইব্রেরি বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয় ১৯৯০ সালের নভেম্বরে। তিনতলা বিশিষ্ট গ্রন্থাগারটিতে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং শিক্ষকদের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। গ্রন্থাগার ভবনে একটি মিলনায়তনও রয়েছে। গ্রন্থাগারে ফটোকপির ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রন্থাগারটিতে প্রতিদিন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গ্রন্থাগারটিকে বর্তমানে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।

যাদুঘর

বিশ্ববিদ্যালয় যাদুঘর

১৯৭৩ সালের ১৪ জুন এ মধ্যযুগের চারটি কামান নিয়ে যাদুঘরটির কার্যক্রম শুরু হয়। এ যাদুঘরের বেলে পাথরের একাধিক ভাস্কর্যসহ বেশকিছু প্রাচীন পাথর আর একটি কামান রয়েছে। মূল কক্ষের প্রবেশ পথে রয়েছে দ্বাদশ শতকের একটি প্রাচীন শিলালিপি। এখানে অষ্টম শতকের পাহাড়পুর থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির চিত্রফলক, বৌদ্ধমূর্তি, মধ্যযুগের ১০-১৫টি বিষ্ণু মূর্তি সৈন্যদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, নানারকম মুদ্রা, প্রাচীন বইপুস্তক, বাদ্যযন্ত্র, উপজাতীয়দের নানা নিদর্শন, চিনামাটির পাত্র ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ যাদুঘরটি সকল খোলা দিনে দর্শকদের জন্য উম্মুক্ত থাকে। ইসলামিক আর্ট গ্যালারীতে রয়েছে মোগল আমলের কামান, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, হস্তলিখিত কুরআন, মধ্যযুগীয় অস্ত্র, প্রাচীন মসজিদের ও তাদের ধ্বংসাবশেষের ছবি। প্রত্নতাত্ত্বিক ও প্রাগৈতিহাসিক গ্যালারীতে প্রাচীনকালের ছবি, জীবাশ্ম, মাটির মূর্তি রয়েছে। ভাস্কর্য গ্যালারীতে রয়েছে অষ্ট থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালের কাঠের মূর্তি, বিষ্ণু মূর্তি, শিবলিঙ্গ। লোকশিল্প গ্যালারীতে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের তামা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, বেতের ঝুড়ি, মাটির ভাস্কর্য, মাটির পুতুল প্রভৃতির বিশাল সম্ভার রয়েছে। আর্ট গ্যালারীতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, রশিদ চৌধুরী, জিয়া উদ্দীন চৌধুরী, নিতুন কুন্ডু চৌধুরীর পেইন্টিংস এবং সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের ভাস্কর্য রয়েছে। 

প্রাণিবিদ্যা যাদুঘর

এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পাঠক্রমের সমর্থনে একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ যাদুঘরটি স্থাপিত হয়। এই যাদুঘরে মোট ৫৪০টি নমুনা সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে প্রাণীর সংখ্যা ৫৭টি এবং ফরসালিন (ভেজা সংরক্ষিত) নমুনার সংখ্যা ৪৮৫টি।

সমুদ্র সম্পদ যাদুঘর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরই সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের একটি রুমে গড়ে তোলা হয়েছে এ যাদুঘর। এখানে ৫৫০টির মতো সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়েছে। হাঙ্গর থেকে শুরু করে বৈদ্যূতিক মাছ, আজব বাণাকেল, অক্টোপাস, শামুক, সাপ সহ রয়েছে অসংখ্য বিস্ময়কর জীব বৈচিত্র

কৃতি শিক্ষক

  • জামাল নজরুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, বিশ্বতত্ত্ববিদ
  • মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, ২০০৬
  • ড. হানিফ সিদ্দিকী
  • ড. আল আমীন
  • অনুপম সেন, সমাজবিজ্ঞানী, লেখক এবং দার্শনিক
  • সালমা খান, সাবেক অধ্যাপিকা, অর্থনীতি বিভাগ, চেয়ারপার্সন, সিডও
  • প্রয়াত মোহাম্মদ আবু সালেহ, সাবেক অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ
  • মুর্তজা বশীর, শিল্পী
  • প্রয়াত দেবদাস চক্রবর্তী, শিল্পী
  • আব্দুল্লাহ খালিদ, ভাস্কর, অপরাজেয় বাংলার নির্মাতা
  • আলাউদ্দিন আল আজাদ
  • হুমায়ুন আজাদ
  • আনিসুজ্জামান
  • আবু হেনা মোস্তফা কামাল
  • মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা
  • আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ
  • সৈয়দ আলী আহসান
  • আবুল ফজল
  • গাজী আসমত, অধ্যাপক, প্রাণী বিদ্যা বিভাগ

0